1. admin@dainikprothomnews.com : admin :
শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনামঃ
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ সাতক্ষীরায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মৎস্যঘের রক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরায় লাইসেন্সবিহীন ওষুধ রাখার দায়ে তিয়ানশি কোম্পানির অফিস সিলগালা সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ১০৪তম জন্মবার্ষিকী পালিত সাতক্ষীরায় ডিবি পুলিশের অভিযানে পুলিশে চাকরির প্রলোভনে শূন্য স্টাম্প ও চেকসহ প্রতারক আটক রোজাদারের মাঝে আসাদুজ্জামান বাবুর ইফতার সামগ্রী বিতরণ সাতক্ষীরায় মহেন্দ্রা ও ইঞ্জিনভ্যানের মুুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত সাতক্ষীরার ভোমরা ইমিগ্রেশন পুলিশ চেক পোস্টে পুলিশ সুপার কাপ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের অভিযানে ৫ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক সাতক্ষীরায় শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় আন্তজার্তিক মাতৃভাষা ও জাতীয় শহীদ দিবস পালিত

সাতক্ষীরায় মানবতাবিরোধী অপরাধে : খালেক মণ্ডলসহ দুইজনের রায় ঘোষণা আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০২২
  • ২৯৬ জন দেখেছে

মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল খালেক মণ্ডলসহ দুইজনের বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণা করা হবে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর গত ১১ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলার রায়টি সিএভির পক্ষে রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার ও কে এম হাফিজুল আলম।

মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আসামিদের বেকসুর খালাসের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন আসামিরা।

প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন জানান, ২০১৫ সালের মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় ৫ মার্চ ২০১৬। মামলার ৪ আসামির মধ্যে আবদুল্লাহ আল বাকী ও জহিরুল ইসলাম ওরফে টিক্কা খান বিচার চলাকালে মারা যান। অপর দুই আসামির মধ্যে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির ও সাতক্ষীরা সদরের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল খালেক মণ্ডলকে তদন্তকালে আটক করা হয়। আর খান রোকনুজ্জামান এখনো পলাতক।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে খালেক মন্ডল রাজাকার বাহিনী গঠন করে এর নেতৃত্ব দেন। এরপর তিনি অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে তৎকালীন সাতক্ষীরা সদর মহকুমা এলাকায় মানবতাবিরোধী এসব অপরাধ করেন।

২০১৫ সালের ১৬ জুন সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খলিলনগর মহিলা মাদ্রাসায় সভা চলাকালে পুলিশ খালেক মণ্ডলকে আটক করে। ওই বছরের ২৫ আগস্ট শহীদ মোস্তফা গাজী হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে ৩টি মামলার একটিতে তাকে আটক করা হয়।

শহীদ রুস্তম আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম গাজী বাদী হয়ে শিমুলবাড়িয়া গ্রামের রুস্তম আলীসহ ৫জনকে হত্যার অভিযোগে ২০০৯ সালের ২ জুলাই খালেক মণ্ডলের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।

প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৭ আগস্ট, ২০১৫ থেকে মামলাটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হয় ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭। ৪ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন সেই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল।

মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ও জব্দ তালিকার সাক্ষীসহ মোট ৬০ জনকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছে। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও)সহ ১৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে ৭টি অভিযোগ আনা হলেও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ছয়টি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।

৬টি অভিযোগ হলঃ

১ম: ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে বেতনা নদীর তীরে বুধহাটা ফেরি টার্মিনালে রাজাকার কমান্ডার ইসহাক (নিহত) ও তার সহযোগীদের গুলিতে আফতাবউদ্দিন ও সিরাজুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে স্থানীয় খলিলুর রহমান, মোঃ ইমাম বারী, মোঃ মুজিবুর রহমান ও ইমদাদুল হককে রাজাকারদের নির্যাতন কেন্দ্র ডায়মন্ড হোটেলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়।

২য়: বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১লা ভাদ্র ধুলিহার বাজার থেকে কামরুদ্দিন ঢালীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যায় ১০/১২ জন রাজাকার সদস্য। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন সাতক্ষীরা মহকুমার রাজাকার কমান্ডার এম আব্দুল্লাহ আল বাকী ও খান রোকনুজ্জামান। পরে বেতনা নদীর পাড়ে ঢালীর লাশ পাওয়া যায়।

৩য়: বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১ ভাদ্র বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে রাজাকার কমান্ডার আবদুল্লাহ আল বাকী, রোকনুজ্জামান খানসহ ৪ থেকে ৫ জন সবদার আলী সরদারকে চোখ বেঁধে পিকআপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে পাওয়া যায়নি।

৪র্থ: বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৭ আষাঢ় সকাল ৭টার দিকে আবুল হোসেন ও তার ভাই গোলাম হোসেন বাড়ির পাশে লাঙ্গল চালাচ্ছিলেন। সকাল ৯টার দিকে গোলাম হোসেন নাস্তা করতে বাড়িতে এলে অভিযুক্ত আব্দুল খালেক মন্ডল ও মো. জহিরুল ইসলাম টেক্কা খানসহ ১০/১২ জন রাজাকার সদস্য তাকে ধরে পাশের একটি পাটক্ষেতে গুলি করে হত্যা করে।

৫ম: বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২ ভাদ্র ভোরে বাছির আহমেদকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা তার বুড়ো আঙুলের রগ কেটে দেয়।

৬ষ্ঠ: বলা হয়েছে যে, ১৯৭১ সালের জ্যেষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে অভিযুক্ত আব্দুল খালেক মন্ডল ও রাজাকার কমান্ডার জহিরুল ইসলাম টেক্কা খান একদল পাকিস্তানি সৈন্যকে নিয়ে কাঠান্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীদের একটি সভা ডাকেন। ওই বৈঠকে বলা হয়, যারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে এবং যারা মুক্তিযুদ্ধে গেছে তারা কাফের।

এরপর তারা কাঠান্ডা ও বৈকারি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগদানকারীদের বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দুই সদস্য মৃত গোলাম রহমানের স্ত্রী আমিরুনকে বাড়ির উঠোনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এছাড়া বৈকারি গ্রামের ছফুরা খাতুনকে নিহত শরীয়তুল্লাহর খালি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে চার পাকিস্তানি সেনা।

সংবাদ টি শেয়ার করে সহযোগীতা করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021-2024 দৈনিক প্রথম নিউজ
প্রযুক্তি সহায়তায় রি হোস্ট বিডি