1. admin@dainikprothomnews.com : admin :
সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ০২:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনামঃ
সাতক্ষীরার তালায় ধানবোঝাই ট্রাক উল্টে দুইজন নিহত সাতক্ষীরায় মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী, দুর্নীতিগস্থ ও সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টিকারীদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না সাতক্ষীরায় চারটি অস্ত্র, ২৯ রাউন্ড গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিন জব্দ করেছে র‌্যাব-৬ সাতক্ষীরায় তেলজাতীয় ফসল উৎপাদনে ৫ কৃষক পুরস্কৃত সাতক্ষীরায় কোন আম কবে পাড়া যাবে, জানালো জেলা প্রশাসন সাতক্ষীরার কলারোয়ায় স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে স্ত্রীর আত্মহত্যা! বাঁশেরবাদা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এসএসসি ২০০৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত আজ থেকে ব্যাংক-বীমা-অফিস-আদালত খুলছে ইরানের দাবি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র, লুকাতে চাচ্ছে ইসরায়েল

সাতক্ষীরায় এক বৃদ্ধাকে মৃত দেখিয়ে তার বয়স্ক ভাতার কার্ড অন্যকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে 

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২২
  • ১২৮ জন দেখেছে

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নে ছকিনা বিবি নামের এক বৃদ্ধাকে মৃত দেখিয়ে তার বয়স্ক ভাতার কার্ড অন্য ব্যক্তিকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে।

এই বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের অবহিত করেছে ভুক্তভোগী ছকিনা বেগমের পরিবার। ভুক্তভোগী ছকিনা বেগম (৮৯) তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়ের শাহজাতপুর গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।

ছকিনা বেগম জানান, তার নামে বয়স্ক ভাতার কার্ড ছিল। ওই বয়স্ক ভাতার কার্ড দিয়ে তিনি ৪ বার টাকা পেয়েছে। হঠাৎ তিনি জানতে পারেন তাকে মৃত দেখিয়ে তার বয়স্ক ভাতার কার্ড মোখছেদ শেখ নামে এক ব্যক্তির নামে দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়টি জানতে পেরে রোববার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ছকিনার পরিবারের সদস্যরা তালা উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে যায়। সেখানে সব কিছু বলার পরে সমাজসেবা অফিসার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বর ওবাইদুর রহমান মিঠুকে অফিসে আসতে বলেন।

এ বিষয়ে খেশরা ইউপি’র ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওবাইদুর রহমান মিঠু বলেন, ছকিনা বিবিকে আগে চিনতাম না। আজকে এ বিষয় নিয়ে কথা বলার পরে তাকে চিনলাম। সমাজ সেবা অফিসের ম্যাডাম আমাকে ডেকেছিলেন, পরে আমি ইউনিয়ন পরিষদে এসে দেখি আমি যেটা করেছি সেটা সঠিক করেছি।

ছকিনা বিবি নামের বৃদ্ধা কি এখনও বেঁচে আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এখন বলতে পারবো না তিনি বেঁচে আছেন কী না।

খেশরা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, মেম্বররা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে কে মারা গেলো সেই তথ্য যাচাই বাছাই শেষে স্বাক্ষর করে আমার কাছে আনলে আমি স্বাক্ষর করি। ২১টি গ্রাম নিয়ে আমার ইউনিয়ন। আমি তো সব লোককে চিনি না। তাছাড়া যদি কারও নামে চলমান বয়স্ক ভাতার কার্ড থাকে তাহলে তাকে বাদ দিতে গেলে তার মৃত সনদপত্র লাগবে। কেউ মারা গেলে ইউনিয়ন পরিষদ রেজিস্ট্রারে তার নাম লিপিবদ্ধ করা থাকে।

ছকিনা বিবি বেঁচে আছে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি বেঁচে আছেন কী না জানি না।

তালা উপজেলা সমাজ সেবা অধিদফতরের অফিসার সুমনা শারমিন বলেন, খেশরা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি রেগুলেশন জমা দিয়েছেন। যেখানে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত বানানো হয়েছে। যে নম্বর দিয়েছে তার নাম ছকিনা বিবি। তিনি জীবিত আছেন। তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা ভাতার বই নিয়ে অফিসে এসেছিলেন গতকাল বোরবার দুপুরে।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যকে ফোন করে অফিসে আসতে বলা হয়। কিছু সময় পরে ইউপি সদস্য কালো চশমা পড়ে আমার অফিসে ঢুকে আমাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, তিনি ইউএনও স্যারের কাছে প্রমাণ করবেন বিষয়টি সত্য। এটা বলে তিনি চলে যান।

পরবর্তীতে বিষয়টি ইউএনও স্যার, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে জানানো হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান বলেছেন আগামী মঙ্গলবার মাসিক মিটিং চলাকালে বিষয়টি উপস্থাপন করতে।

তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জানান, ছকিনা বিবি বেঁচে আছেন, বিষয়টি সত্য। চেয়ারম্যান ও মেম্বর যোগসাজশ করে জীবিত ব্যক্তিতে মৃত বানিয়েছে। বিষয়টি আগামী মিটিংয়ে উপস্থাপন করা হবে এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, শুধু ছকিনা বিবির বিষয় নয়। চেয়ারম্যান ও মেম্বর দু’জনে মিলে এমন অপরাধ প্রতিনিয়ত করছে। সরকারের একটি নিয়ম আছে ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ড কর্তন করা যাবে না। দেখা গেছে ওই মেম্বর তার ওয়ার্ড থেকে ৪০ থেকে ৫০ জনের নাম কেটে দিয়েছে। যারা তাকে ভোট দেয়নি তাদের নাম কেটে দিয়েছে। যাদের নাম কেটেছে তারা অধিকাংশ সরকার দলীয় লোক।

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশান্ত কুমার বিষ্বাস জানান, ছকিনা বিবির বিষয়টি সমাজ সেবা অফিসার আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। তবে আমি সারাদিন জেলাতে মিটিংয়ে ছিলাম তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে বিষয়টি জেনেছি সমাজ সেবা অফিসারের মাধ্যমে।

সংবাদ টি শেয়ার করে সহযোগীতা করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021-2024 দৈনিক প্রথম নিউজ
প্রযুক্তি সহায়তায় রি হোস্ট বিডি